scholarsaga

সৌর বিদ্যুতে কি সাইজের কতগুলো ব্যাটারি প্রয়োজন?

সৌর বিদ্যুতে কি সাইজের কতগুলো ব্যাটারি প্রয়োজন?

সোলার ফটোভোলটাইক সিস্টেম ডিজাইন এর ওপর ইংরেজিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্টিকেল, রিসার্চ পেপার অথবা প্রোজেক্ট পেপার থাকলেও বাংলাতে এ র সংখ্যা একেবারেই নগন্য। একটি স্ট্যান্ড অ্যালোন সিস্টেম (যে সিস্টেমে ইলেকট্রিক পাওয়ার সোর্স হিসেবে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয় অর্থাৎ যেখানে ইউটিলিটি গ্রিড এভেইলএবেল না সেসকল জায়গাতে স্ট্যান্ড অ্যালোন ফটোভোলটাইক পাওয়ার সিস্টেম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকআপ হিসেবে নিজস্ব জেনারেটর ব্যবহার হয় অর্থাৎ এসকল পাওার সিস্টেমে সৌর বিদ্যুৎ-ই প্রাথমিক  ইলেকট্রিক পাওয়ার সোর্স) ডিজাইন করা যায় তা ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। 

Strategies for designing PV systems step by step are presented solely on a single page.

Follow our youtube channel. and Facebook page.

অ্যাভারেজ ডেইলি এনার্জি কনজামপশন নির্ণয়ঃ 

প্রথমেই বাছাই করে নিতে হবে যেসকল ইলেকট্রিকাল লোড এই সিস্টেম দিয়ে আমরা চালাতে চাই। তারপরেই  ওইসকল লোড গড়ে দৈনিক কি পরিমান এনার্জি কঞ্জিউম করবে তা নির্ণয় করতে হবে। এনার্জি কনজামশন নির্ণয় করা একটি কষ্টকর কাজ মনে হতে পারে কিন্তু এই কাজটি করা না হলে আমরা যথাযথভাবে একটি সিস্টেম ডিজাইন করতে পারবোনা, সিস্টেমটি ওভার সাইজিড অথবা আন্ডার সাইজড করে ফেলতে পারি, যাই করি না কেন কনটিই আমাদের জন্য সুখকর হবে না। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হতে পারে। 

একটি ইলেকট্রিক লোড কি পরিমাণ এনার্জি কনজিউম করছে তা জানার জন্য প্রথমেই জানতে হবে এটি কি পরিমান ইলেকট্রিক পাওয়ার (Watt) গ্রহণ করছে, প্রতিদিন কতটুকু সময় ধরে চলছে এবং প্রতি সপ্তাহে এটি কতদিন করে চলছে। এখানে সময় হিসেবে এক সপ্তাহ এর জন্যই কনসিডার করা হয়েছে যাতে এনার্জি কঞ্জাম্পশনের একটা সম্ভাব্য গড় প্যাটার্ন পাওয়া যায়। কারণ কিছু কিছু লোড আছে যেগুলো সপ্তাহে খুব কম পরিমাণ চলে আবার কিছু কিছু লোড আছে যেগুলো প্রতিদিনই চলে তাই গড় নির্ণয় করার জন্য এক সপ্তাহ সময়কাল ধরে হিসাব করা হবে। দৈনিক গড় এনারজি কনজাম্পশন হিসাব করার জন্য আমরা নিম্নবর্ণিত সমীকরণটি ব্যবহার করঃ 

Energy (in watt-hours) = (Watts × Hours per day × Days per week) ÷ 7 days per week

একটি উদাহরণের মাধ্যমে আমরা অ্যাভারেজ ডেইলি এনেরজি কন্সাম্পশন নির্ণয় করতে পারি এক্ষেত্রে আমরা একটি ওয়াশিং মেশিন বিবেচনা করতে পারি। কারণ ওয়াশিং মেশিন আমরা সাধারণত সপ্তাহের প্রতিদিনই ব্যবহার করি না। হয়তো সপ্তাহে দু-তিন দিন খুব অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করি। মনে করি ওয়াশিং মেশিন 175 ওয়াট এর এবং এটি 45 মিনিট (0.75 ঘণ্টা) ধরে চলে। এবং এটি সপ্তাহে চারদিন চলে তাহলে এর ডেইলি এনার্জি কনজামশন হবে নিম্নরূপঃ 

Energy (in watt-hours) = (175W × 0.75 Hrs × 4 Days) ÷ 7 days per week = 75 Wh per day

একটি পাওয়ার সিস্টেম অবশ্যই অল্প সংখ্যক লোড থাকেনা। এভাবে প্রতিটি লোডের জন্য আলাদা আলাদা করে ক্যালকুলেশন করা একটু কষ্টসাধ্য ব্যাপার তাই আমরা এক্সেল শিট ব্যবহার করে খুব সহজেই অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের ব্যবহৃতব্য লোডসমূহের দৈনিক গড় এনেরজি কন্সাম্পশন নির্ণয় করে ফেলতে পারি। সেক্ষেত্রে আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে উপরে উল্লেখিত সমীকরণটি ব্যবহার করে একটি স্প্রেডশিট তৈরি করে নিতে পারি। আমার ব্যবহৃত এক্সেল শিটটি কিছুটা নিম্নরূপঃ 

Load DescriptionQuantityConsumed WattsHours per dayDays per WeekTotal WattsTotal Watts Per WeekTotal Whrs per day
ABCDEF=B*CG=F*D*EH=G/7
Fridge 112011712092401320
pump11300271300182002600
Lights 1020472005600800
TV1200462004800686
Tube Light 121242116824
Fan15037501050150
Stand Fan14057401400200
Total:5780

Total Watt-hours per day divided by 1000 = kWh per day i.e 5780/1000 = 5.780 kWh per day.  

Total kWh per day * 365 = kWh/year i.e 5.78 * 365 = 2109.07 kWh per year.  

এভাবে আমরা আমাদের প্রয়োজন মোতাবেক ডেইলি বা ইয়ারলি অ্যাভারেজ এনেরজি কন্সাম্পশন হিসাব করতে পারি। স্ট্যান্ড অ্যালোন ফটোভোলটাইক সিস্টেমে বিভিন্ন কম্পোনেন্ট ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন চার্জ কন্ট্রোলার, ইনভার্টার, ব্যাটারি ব্যাংক ইত্যাদি। এসকল কম্পনেন্ট অতি সামান্য মাত্রায় হলেও এনেরজি কঞ্জিউম করে থাকে। তাই ডেইলি এভারেজ এনেরজি কন্সাম্পশন হিসাব করার সময় এসকল কম্পোনেন্টের এনার্জি হিসাব করতে হবে। এইসকল কম্পনেন্ট কি পরিমাণ এনার্জি কঞ্জিউম করে তা ঐ সকল কম্পোনেন্টের নেমপ্লেট অথবা স্পেক শিট অথবা ডাটা শিটে উল্লেখ থাকে। 

ব্যাটারি ব্যাংক সাইজিং: 

আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি যে কিভাবে ডেইলি অ্যাভারেজ এনেরজি কন্সাম্পশন নির্ণয় করতে হয়। এবার আমরা দেখবো কিভাবে ব্যাটারি ব্যাংক (ব্যাংক শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে কারণ ব্যাটারি ব্যাংক বলতে অনেক গুলো ব্যাটারি বিভিন্নভাবে সিরিজ এবং প্যারালাল কানেকশন করে কাঙ্খিত ব্যাটারি ক্যাপাসিটি ও ব্যাটারি ভোল্টেজ তৈরি করা হয় বলে) ডিজাইন করতে হয়। সহজ ভাষায় কি পরিমাণ এনার্জি আমরা স্টোর করে রাখতে চাই এবং প্রয়োজন মোতাবেক তা ব্যবহার করতে চাই সেটাই মূলত ব্যাটারি ব্যাংক সাইজিং। ব্যাটারি ব্যাংক সাইজিং এর ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়। যেমন আমরা যেই ইনভার্টার টি ব্যবহার করব তা র এফিশিয়েন্সি, কতদিন ধরে আমরা এনার্জি স্টোর করে রাখতে চাই সেই সময় কাল (ডেস অফ অটোনমি), ব্যাটারি ব্যাংক এর অপারেটিং ভোল্টেজ, ব্যাটারি ব্যাংকের কত পার্সেন্ট 

(ডেপ্ত অফ ডিসচার্জ) আমরা ইউজ করতে চাই সেই পরিমাণ, ব্যাটারি ব্যাংকের অপারেটিং টেম্পারেচার ইত্যাদি। উল্লেখিত বিষয়গুলো অনেকের কাছেই নতুন মনে হতে পারে। তবে সমস্যা নেই প্রতিটি বিষয় নিয়েই সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা হবে এবং ধারাবাহিকভাবে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে একটি পারফেক্ট ব্যাটারি ব্যাংক ডিজাইন করা শিখব। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ব্যাটারি পাওয়া যায়। তবে সাধারণত আমরা ডিপ সাইকেল লেড এসিড ব্যাটারি ব্যবহার করে থাকি। ব্যাটারি বেসিক নিয়ে আলোচনা করা এই সেকশনের বিবেচ্য বিষয় নয় তবে ভবিষ্যতে সুযোগ হলে শুধুমাত্র ব্যাটারি বেসিক নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব। 

ইনভার্টার এফিশিয়েন্সিঃ

ইনভার্টার এর ওয়ার্কিং প্রিন্সিপাল এই সেকশনের বিবেচ্য বিষয় নয় আপাতত শুধুমাত্র এফিশিয়েন্সি পার্সেন্টেজ জানলেই চলবে। সহজ কথায় ইনভার্টারের ব্যাসিক কাজ হল ডিসি কে এসি তে রূপান্তর করা। এই রূপান্তরের সময় সবসময়ই অল্প পরিমাণ লস হয়ে থাকে। সাধারণত ইনভারটারের এফিসিএন্সি 90% থেকে 95% পারসেন্ট এর মধ্যে হয়ে থাকে। তবে এ সম্পর্কে সঠিক তথ্যটি জানা প্রয়োজন। প্রতিটি ইনভার্টার ম্যানুফ্যাকচারার কম্পানিই তাদের ইনভার্টারের নেমপ্লেট অথবা স্পেক শীটে ইনভার্টার সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করে থাকে। এসকল স্পেক শিট থেকে ইনভার্টার এফিশিয়েন্সি কত তা জানা যায়। 

ডেস অফ অটোনমিঃ

সহজ কথায় ব্যাটারি ব্যাংকটিকে একবার চার্জ করলে তা নিরবিচ্ছিন্নভাবে যতদিন এনার্জি সাপ্লাই করতে পারবে সেই দিন বা সময়কেই ডেস অফ অটনমি বলে। এই দিনের সংখ্যাটা সম্পূর্ণভাবে সিস্টেম ডিজাইনার এর উপর নির্ভর করে। যতদিন খুশি ততো দিনের জন্য এটি ডিজাইন করা যায়। তবে এক্ষেত্রে ব্যাটারি ব্যাংকের সাইজ এবং সোলার প্যানেল এর সাইজ ব্যালেন্সড হতে হয়। এই ব্যালেন্সিং কিভাবে করতে হয় সেটি পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে। আরও একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, যত বেশি দিন আমি চাইব ততো বেশি ব্যাটারি ক্যাপাসিটি প্রয়োজন হবে অর্থাৎ বেশিসংখ্যক ব্যাটারি প্রয়োজন হবে এবং খরচ বাড়বে। সাধারণত বাসাবাড়িতে ব্যবহার করার জন্য দুই থেকে তিন দিন ডেস অফ অটোনমি বিবেচনা করলেই হয়।

ব্যাটারি টেম্পারেচারঃ

আমরা স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়টি ইগনোর করে থাকি। যদিও এটি উচিত নয়। যে কক্ষে বা স্থানে ব্যাটারি ব্যাংকটি স্থাপন করা হবে সেই কক্ষের বা স্থানের টেম্পারেচার ব্যাটারি ক্যাপাসিটি কে এফেক্ট করে। তাই টেম্পারেচার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। টেম্পারেচার যত কম, ব্যাটারি ক্যাপাসিটিও তত কম। কারণ, ব্যাটারির ভিতরে সংগঠিত ক্যামিকাল রিয়েকশন অনেকাংশেই টেম্পারেচার এর উপর নির্ভর করে। টেম্পারেচার হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে একটি নির্দিষ্ট ব্যাটারির ক্যাপাসিটি কি পরিমাণ হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটবে তা সাধারণত ব্যাটারির স্পেক শীট এ পাওয়া যায়। এটিকে টেম্পারেচার ডিরেট ফ্যাক্টর বলে যা সাধারণত পার্সেন্টেজে হিসাব করা হয়। 

ডেপ্ত অফ ডিসচার্জ (DOD): 

সহজ কথায় একটি ব্যাটারি ব্যাংকের অথবা যেকোনো একটি ব্যাটারির ক্যাপাসিটির কত পারসেন্ট আমরা ইউজ করতে চাই সেটাই মূলত ডেপ্ত অফ ডিসচার্জ। এটিকে সাধারণত পার্সেন্টেজে হিসাব করা হয়। ডেস অফ অটোনমি এর মতোই ডেপ্ত অফ ডিসচার্জ, ব্যাটারি ব্যাংক সাইজিং এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডেপ্ত অফ ডিসচার্জ যত কম, ব্যাটারি সাইকেল ততো বেশি। এক (০১) ব্যাটারি সাইকেল বলতে  মূলত একটি ব্যাটারির একবার সম্পূর্ণ ডিসচার্জড হয়ে পুনরায় রিচার্জড হওয়াকে বোঝায়।  

সৌর বিদ্যুতে কি সাইজের কতগুলো ব্যাটারি প্রয়োজন?

ডেপ্ত অফ ডিসচার্জ সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা পাওয়ার জন্য উপরোক্ত কার্ভ টি দেখা যেতে পারে। এখানে নাম্বার অফ ব্যাটারি সাইকেল ভার্সেস ডেপ্ত অফ ডিসচার্জ অথবা পার্সেন্টেজ অফ ডিসচার্জ দেখানো হয়েছে। প্রতিটি ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারিং কম্পানি তাদের প্রস্তুতকৃত ব্যাটারির জন্য এ ধরনের গ্রাফ প্রোভাইড করে থাকে। এই গ্রাফ এর সাহায্যে আমরা একটি নির্দিষ্ট ব্যাটারি তার সম্পূর্ণ ব্যাটারি লাইফে কতটুকু এনার্জি সাপ্লাই করতে পারবে তার একটি সম্ভাব্য ধারণা পেতে পারি। 

গ্রাফটি একটু ভালো করে দেখলে দেখা যায় যে, ব্যাটারির জীবনকাল মাত্র 3200 সাইকেল যখন এর ডেপ্ত অফ ডিসচার্জ মাত্র 50 পার্সেন্ট। আবার যখন ব্যাটারির ডেপ্ত অফ ডিসচার্জ 80 পার্সেন্ট তখন এর সাইকেল কমে 2100 হয়েছে। তাহলে একটি ব্যাটারির জীবন কালে অথবা লাইফ সাইকেলে ডেপ্ত অফ ডিসচার্জের কোন ভ্যালুর জন্য আমরা বেশি এনার্জি গ্রহণ করতে পারব একবার দেখে নেওয়া যাক।

মনেকরি আমাদের ব্যবহৃত ব্যাটারিটির ক্যাপাসিটি 400 Ah.

400 Ah × 50% DOD per cycle × 3,200 cycles = 640,000 Ah

400 Ah × 80% DOD per cycle × 2,100 cycles = 672,000 Ah

উপরোক্ত দুটি সমীকরণ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে ডেপ্ত অফ ডিসচার্জ যদি আমরা কম ধরে ডিজাইন করি, তাহলে ব্যাটারি বেশিদিন টিকবে অর্থাৎ লাইফ সাইকেল বেশি হবে কিন্তু এটি এর জীবন কালে কম পরিমাণ এনার্জি প্রদান করতে পারবে। অপরদিকে যদি ডেপ্ত অফ ডিসচার্জ বেশি ধরে ডিজাইন করি তাহলে এর বিপরীত টি ঘটবে।

এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমাদের সুবিধামতো ডেপ্ত অফ ডিসচার্জ ধরে ব্যাটারি ব্যাংক ডিজাইন করতে পারি। তবে অধিকাংশ  ইঞ্জিনিয়াররা 50 থেকে 80 এর ভিতর ডিসচার্জ ধরে থাকেন। 

তবে মনে রাখতে হবে ডেপ্ত অফ ডিসচার্জ যেন 80 পার্সেন্ট এর বেশি না হয়। কারণ ব্যাটারি ব্যাংক ক্যাপাসিটির 80 শতাংশের বেশি বার বার ব্যবহার করা ব্যাটারি ব্যাংকের জন্য ক্ষতিকর। 

নমিনাল ভল্টেজঃ

একটি ব্যাটারি ব্যাংক এর নমিনাল ভোল্টেজ বলতে সেই ভোল্টেজ কে বোঝায়, যেই ভোল্টেজ ভ্যালু ইনভার্টারের ইনপুট হিসেবে দিতে হবে অর্থাৎ ব্যাটারি ব্যাংকের স্টোরকৃত ডিসি পাওয়ার কে এসি পাওয়ার এ রূপান্তর করতে গেলে ইনভার্টারের ইনপুট হিসেবে যে ভোল্টেজ দিতে হবে সেটাই মূলত ব্যাটারি ব্যাংকের নমিনাল ভোল্টেজ। বিভিন্ন ইনভার্টারে বিভিন্ন রকম ইনপুট ডিসি ভোল্টেজ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ইনভার্টারের ইনপুট ভোল্টেজের রেঞ্জ অনুযায়ী নমিনাল ভোল্টেজ  বিবেচনা করে ব্যাটারি ব্যাংক টি ডিজাইন করতে হবে। নমিনাল ভোল্টেজ বেশি ধরে ব্যাটারি ব্যাংক ডিজাইন করলে, একই পরিমাণ পাওয়ার সাপ্লাই করতে, কম পরিমাণ কারেন্ট দরকার হবে অর্থাৎ কন্ডাক্টর সাইজ কম হবে। ফলে কন্ডাক্টরের জন্য বিবেচ্য খরচ কমানো যাবে।

ব্যাটারি ব্যাংক ডিজাইন করার জন্য যে সকল বেসিক বিষয় আমাদের জানা প্রয়োজন ছিল, তা আমরা ইতোমধ্যেই জেনে ফেলেছি। এবার এসকল বেসিক বিষয় মাথায় রেখেই, একটি ব্যাটারি ব্যাংক ডিজাইন করা যাবে। এক্ষেত্রে আমরা ধাপে ধাপে অগ্রসর হব। 

প্রথম ধাপ- ডেইলি অ্যাভারেজ এসি ওয়াট আওয়ার অথবা কিলোওয়াট আওয়ার কনজামপশন নির্ণয়ঃ

এটি কিভাবে নির্ণয় করতে হবে তা আমরা ইতোপূর্বেই জেনেছি। পূর্বের সেশানে আমরা এটি হিসাব করে একটি রেজাল্ট পেয়েছিলাম সেটি হল 5.78 কিলোওয়াট আওয়ার। 

দ্বিতীয় ধাপঃ প্রথম ধাপে প্রাপ্ত রেজাল্টকে ইনভার্টার এফিশিয়েন্সি দিয়ে ভাগ করনঃ

আগেই বলেছি ডিসি থেকে এসিতে রূপান্তরের সময় কিছুটা লস হয়ে থাকে। তবে অধিকাংশ ইনভার্টার 90 থেকে 95 পার্সেন্ট ইফিসিয়েন্ট হয়ে থাকে। মনেকরি, আমাদের ব্যবহৃত ইনভার্টারটির  ইফিসিয়েন্সি 90 পারসেন্ট। এবার আমাদের প্রথম ধাপে প্রাপ্ত  5.78 কিলোওয়াট আওয়ার কে 0.9 দিয়ে ভাগ করতে হবে। 

5.78 kWh ÷ 0.9 = 6.42 kWh

তৃতীয় ধাপঃ ডিসি লোড (যদি থাকে) এর ওয়াট আওয়ার ভ্যালু যোগ করণঃ

যদি আমরা কোন ডিসি লোড ব্যবহার করতে চাই তার ওয়াট আওয়ার ভ্যালু, দ্বিতীয় ধাপে প্রাপ্ত রেজাল্ট এর সাথে  যোগ করতে হবে। মনে করি আমরা 20 ওয়াট এর তিনটি এলইডি বাল্ব 2 ঘন্টার জন্য প্রতিদিন ব্যবহার করব। সে ক্ষেত্রে আমাদের এই ডিসি লোডের জন্য 0.12 (3 lights × 20 W × 2 hours = 120 Wh, or 0.12 kWh) কিলোওয়াট আওয়ার এনার্জি প্রয়োজন পড়বে। এই কিলোওয়াট আওয়ার ভ্যালু দ্বিতীয় ধাপে প্রাপ্ত ভ্যালুর সাথে যোগ করতে হবে।

6.42 kWh + 0.12 kWh = 6.54 kWh.

আমরা যদি কোন ডিসি লোড ব্যবহার করতে না চাই সেক্ষেত্রে এই ধাপটি বিবেচনা  করার প্রয়োজন নাই।  

চতুর্থ ধাপঃ ডেস অফ অটোনমি গুণ করনঃ

ডেইজ অফ অটোনমি সম্পর্কে আমরা এ বিস্তারিত শিখেছি। মনে করি আমাদের ব্যবহৃত ব্যাটারি ব্যাংকটি দিয়ে আমরা তিন দিনের জন্য এনার্জি স্টোর করে রাখতে চাই। তাহলে ডেইজ অফ অটোনমি  হবে তিন দিন। এবারে তৃতীয় ধাপে প্রাপ্ত রেজাল্ট এর সাথে আমাদের বিবেচ্য ডেস অফ অটোনমিক গুণ করতে হবে। 

6.54 kWh × 3 days = 19.62 kWh. 

পঞ্চম ধাপঃ টেম্পারেচার ডিরেট ফ্যাক্টর ভাগ করণঃ

এই ধাপে আমরা ব্যাটারি ব্যাংকের টেম্পারেচার ডিরেট ফ্যাক্টর, চতুর্থ ধাপে প্রাপ্ত রেজাল্ট এর সাথে ভাগ করব। টেম্পারেচার ডিরেট ফ্যাক্টর সম্পর্কে আমরা পূর্বেই জেনেছি ।

সৌর বিদ্যুতে কি সাইজের কতগুলো ব্যাটারি প্রয়োজন?

মনেকরি, আমরা শীতের দিনে 15 ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ব্যাটারি ব্যাংকটি ডিজাইন করছি এবং 15 ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আমাদের ব্যাটারি ব্যাংকটির টেম্পারেচার ডিরেট ফ্যাক্টর 90% অর্থাৎ 

19.62 kWh ÷ 0.9 = 21.8 kWh.

ষষ্ঠ ধাপঃ ডেপ্ত অফ ডিসচার্জ ভাগ করণঃ

ডেপ্ত অফ ডিসচার্জ সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি।এই ধাপে আমরা ব্যাটারি ক্যাপাসিটির কত পারসেন্ট ব্যবহার করতে চাই অর্থাৎ ডেপ্ত অফ ডিসচার্জ  কত হবে সেই ভ্যালু কে, পঞ্চম ধাপে প্রাপ্ত রেজাল্ট থেকে ভাগ করতে হবে। মনেকরি, আমাদের ব্যাটারি ব্যাংকটির ক্যাপাসিটির 75 পার্সেন্ট ব্যবহার করব অর্থাৎ ডেপ্ত অফ ডিসচার্জ  হবে 75 শতাংশ। অর্থাৎ

21.8 kWh ÷ 0.75 = 29.1 kWh.

সপ্তম ধাপঃ ব্যাটারি ব্যাংকের নমিনাল ভোল্টেজ ভাগ করণঃ 

সকল প্রকার ব্যাটারি সাধারণত আম্প আওয়ার (Ah) হিসেবে রেটিং করা হয় ওয়াট আওয়ার (Wh) হিসেবে রেটিং করা হয় না। এখন আমাদের ব্যাটারি ব্যাংকের সাইজ কত আম্প আওয়ার (Ah) হবে, তা নির্ণয় করার জন্য আমরা ষষ্ঠ ধাপে প্রাপ্ত রেজাল্ট কে ব্যাটারি ব্যাংকের নমিনাল ভোল্টেজ দিয়ে ভাগ করব। নমিনাল ভোল্টেজ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। মনেকরি আমাদের ব্যাটারি ব্যাংকের নমিনাল ভোল্টেজ 48 ভোল্ট। অর্থাৎ

29.1 kWh ÷48 V = 0.606 kAh, or 606 Ah.

সুতরাং উপরের সমীকরণটি থেকে আমরা, আমাদের কাঙ্খিত ব্যাটারি ব্যাংকটির সাইজ পেয়েছি। অর্থাৎ আমাদের ব্যাটারি ব্যাংকটির সাইজ হবে 48V 606Ah. 

Strategies for designing PV systems step by step are presented solely on a single page.

Follow our youtube channel. and Facebook page.

Spread the love

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top